আত্মহত্যার ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া ও প্রতিরোধ

আত্মহত্যার ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া ও প্রতিরোধ

আইন ও প্রশাসন মুক্তমত
  • 50
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    50
    Shares

ইমাউল হক (পিপিএম)::

পুলিশ অফিসার বুঝতে পারে Homicidal, Suicidal ক্রিয়া। পরিনত অফিসার হওয়ার আগেই বা লগ্নেই দুজন ইউনিফর্ম সহকর্মীর আত্মহত্যার, আত্মার হনন সংবাদ খুবই পীড়িত করেছে,ব্যথিত করেছে,দর্শন কে রুগ্ন করেছে,চিন্তাকে অসুস্থ করেছে,সামনের পথকে বন্ধুর করেছে,নিজেকে ঘরের আয়নায় প্রশ্নবিদ্ধ করেছে,ইউনিফর্ম কে কষ্ট ও ক্ষতি করেছে,মৃত্যটাকে কাপুরুষচিত করেছে।
__________________________________________

আত্মহত্যার ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া ও প্রতিরোধ::

আত্মহত্যার দর্শন:
যখন কেউ রাষ্ট্রীয় আইনে মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রাপ্ত হন, অথবা দুর্ভাগ্যবশত জীবন ধারণে অপারগ হন, অথবা অনিবর্তনীয় অপমানে জর্জরিত হন, তখন দার্শনিক প্লেটো’র মতে আত্মহত্যা করা অনৈতিক নয়। তবে, প্লেটো বিশ্বাস করতেন, যদি কেউ নিস্ক্রীয়তা বা কাপুরুষতার জন্য আত্মহত্যা করেন, তবে সেটা অবশ্যই শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

আত্মহত্যা একটি অনৈতিক ক্রিয়া::
যুক্তি হল বিষণ্নতা, মানসিক বেদনা বা অর্থনৈতিক দারিদ্র্য ইত্যাদি সমস্যা সাময়িক এবং এসব কারণের অনেকগুলোই উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে দূর করা সম্ভব। “আত্মহত্যা হচ্ছে সাময়িক সমস্যার চিরস্থায়ী সমাধান”। এধরনের কিছু সমস্যার উদাহরণ হলো, অনারোগ্য রোগভোগ অথবা আজীবন মানসিক সমস্যায় ভোগা।

অস্তিত্ববাদী দার্শনিক সাত্রে কামুর “দি আউটসাইডার” উপন্যাসের প্রধান চরিত্র বর্ণনা করেছেন এভাবেই-উদ্ভট লোকটি আত্মহত্যা করবে না, সে বাঁচতে চায়, তার কোন ধরনের নিশ্চয়তা বর্জন না করে, কোন ভবিষ্যৎ ছাড়া, কোন আশা ছাড়া, কোন কুহক ছাড়াএবং কোন কিছু থেকে ইস্তফা দেয়া ছাড়াই । সে মৃত্যুকে দেখছে অণুরাগপূর্ণ মনযোগের সাথে এবং সেই অণুরাগপ্রসূত মুগ্ধতা তাকে মুক্তি দিচ্ছে ।

আবার আমরা লোকটিকে বাধা দিতে পারি এবং বোঝাতে পারি যে, এই ভাঙ্গা ব্রীজ পার হওয়াটা বিপজ্জনক, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে ব্রীজটি পার হতে সম্পূর্ণরূপে নীরস্ত করতে পারি না, কারণ সেই শুধু জানে তার জীবনের মূল্য, ভাঙ্গা ব্রীজ পার হবার বিপদের সাথে কতোটা তুলনীয়!

পুলিশ অফিসার বুঝতে পারে Homicidal, Suicidal ক্রিয়া। পরিনত অফিসার হওয়ার আগেই বা লগ্নেই দুজন ইউনিফর্ম সহকর্মীর আত্মহত্যার, আত্মার হনন সংবাদ খুবই পীড়িত করেছে,ব্যথিত করেছে,দর্শন কে রুগ্ন করেছে,চিন্তাকে অসুস্থ করেছে,সামনের পথকে বন্ধুর করেছে,নিজেকে ঘরের আয়নায় প্রশ্নবিদ্ধ করেছে,ইউনিফর্ম কে কষ্ট ও ক্ষতি করেছে,মৃত্যটাকে কাপুরুষচিত করেছে।

বাংলাদেশ পুলিশে সাব ইন্সপেক্টর ই back-bone .
পুলিশের মাঠ পর্যায়ের সমস্ত কাজ তারাই করে। থাকে ।সাব ইন্সপেক্টর পরিনত হয়ে ইন্সপেক্টর হলে তারা পাকাপোক্ত হয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ হয়।
বাংলাদেশে পুলিশে যারা অফিসার ইনচার্জ হয় অন্যান্য দেশের পুলিশের তুলনায় তারা অনেক অভিজ্ঞ ও পেশাদারিত্ব সম্পন্ন।

সাব ইন্সপেক্টর হতে হয় এক বছর বাস্তব প্রশিক্ষণ এবং তার আগে এক বছর সারদা র বেসিক ট্রেনিং।

তার আগে পুলিশ যাচাই পরীক্ষা,তার আগে মেডিকেল তার আগে ভাইভা ,তার আগে লিখিত তার ও আগে মানে সর্ব প্রথম শারীরিক পরীক্ষা ,দৌড়, লম্ফ, ঝম্ফ। অন্যান্য দেশে পুলিশ অফিসার হতে এত পরীক্ষা দিতে হয় না।উচ্চতা বা বুকের মাপ চাহিদা মত না হলে সে যত ভাল ছাত্রই হোক লিখিত পরীক্ষা দিতে পারে না।
আবার লিখিত পরীক্ষায় প্রথম হলেও স্ব্যস্হ্য পরীক্ষায় না টিকলে চাকরি হয় না।যেমন থাকে Figurehead তেমনি মেধা। এমন যোগ্যতার সমযোগ খুব কমই আছে।।।

আর এই পদ ই এক মাত্র মামলা তদন্ত করে।আজ না প্রায় তিনশ বছর হল ।শুধুই এদেশে নয় সারা বিশ্বে।কখন সাব ইন্সপেক্টর, কখনও হেড কনস্টেবল, কখনও দারোগা নামে।যে কোন ব্যক্তির অভিযোগ তদন্ত করা খুব সহজ নয়।বিচার নির্ধারন করা অবশ্যই বড় বিচারের কাজ।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে এত গুরুত্বপূর্ণ পদবী পেয়েও হাসান এবং রোকনুজ্জান থানা র মধ্যেই আত্মহত্যা করেছে (প্রাথমিক সংবাদ)।আত্মহত্যা !নিজ আত্মাকে হত্যা করা কাপুরুষচিত কিন্ত কঠিন ও বটে। আত্মহত্যার চেষ্টা ফৌজদারী অপরাধ তারা তা জানেও।

অল্প কর্মজীবনে হয়ত আত্মহত্যার কোন মৃতদেহের সুরত হাল করেনি।কারন আমি যেদিন ফাঁসি দিয়ে আত্মহত্যার এক পুরুষের সুরৎহাল করি তার পর থেকেই বুঝতে পারি আত্মহত্যার ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া।

আধুনিক যুগের শিক্ষিত, প্রশিক্ষিত দুইজন অফিসার, দারোগা বা সা ইন্সপেক্টর হল থানার অলংকার। সেই তারাই যদি থানার মধ্যেই আত্মহত্যা করে তাহলে আর কি হবে।

ব্যক্তির ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, হতাশা জনক বিষয় থেকে আত্মহত্যা করতে পারে।প্রকাশিতব্য বলা যদি অপ্রকাশিত থেকে যায় তখন আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।

তাঁরা দুইজন ই নবীন পুলিশ অফিসার। তাদের মানসিক মনন , দর্শন ও পারিবারিক, সামাজিক চিত্র যদি জানা যেত বা তাদের সহপাঠীদের সাথে শেয়ার করা দুঃখ কষ্ট জানা যেত তাহলে হয় কাউন্সিলিং করা যেত।
তারা হয়ত বুঝতেই পারেনি কত দুর যেতে পারবে বা যেতে হবে।যার কারনে পথের শুরুতেই নিজেকে প্রত্যাহার করে নিল।
কিন্ত এ মৃত্যু তো খারাপ, খারাপ নজীর, আত্মার হত্যা করা তো খুনের অপরাধ। কাপুরুষচিত, ঘৃণিত।

এমন টা কাম্য নয়। শুধু তাদের মত পুলিশ অফিসার নয় সমাজে অনেকেই এমন পথ বেছে নেয় যা সঠিক নয়।
এ বিষয়ে যার যার অবস্থানে কাউন্সিলিং করানো দরকার। জীবনের প্রতি আকর্ষণ বাড়ানোর তথ্য দেওয়া যেতে পারে এমন ব্যক্তিদের। মনস্তাত্বিক কলা কৌশল ও মনের খারাপ প্রবৃত্তি ও কাল্পনিক মন কে নিয়ন্ত্রণের দর্শন পড়ানো যেতে পারে।

ক্ষুদ্র পরিসরে মনের,পরিবারের, সমাজের খবর নেওয়া যেতে পারে ।
আর এস দায়িত্ব পরিবারের, সহপাঠীদের, সহকর্মীদের, কাছের মানুষদের।

হতাশা থেকে জীবন মুখী করার চিন্তাচেতনা জাগ্রত করে আত্মহত্যাপ্রবন মানুষদের সঠিক পথে আনতে সবার এগিয়ে আসতে হবে।

এ ঘটনা গুলোই যেন শেষ হয়।আর যেন কারো জীবন, পরিবার, ও সমাজে এমন না হয় সেজন্যই এ লেখা।

ইমাউল হক