উখিয়ায় ১৪৪ ধারা অমান্য করে বাড়ি ভাংচুর ও মারধর পুলিশের

আইন ও প্রশাসন উপকূল উপজেলা এনজিও খাগড়াছড়ি পার্বত্য পৌরসভা বান্দরবান মাদক রাঙামাটি রাজনীতি রোহিঙ্গা ক্যাম্প সীমান্ত সংকট স্থানীয় বার্তা
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

নিজস্ব প্রতিবেদক:
বিরোধপূর্ণ জমিতে আদালতের জারি করা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে প্রতিপক্ষের হয়ে জমি দখল চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে উখিয়া থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে। উখিয়া থানার ওসি (তদন্ত) সালাহ উদ্দীন ও ইনানী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোজাম্মেল হোসেনর বিরুদ্ধে এই অবিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
বুধবার (৩ ফেব্রুয়ারি) কক্সবাজার প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে মৃত্যুপথযাত্রী বৃদ্ধ ইনানীর নিদানিয়া এলাকার বাসিন্দা ছৈয়দ আহমদ এই অভিযোগ করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে ছৈয়দ আহমদ অভিযোগ করেন, তার একটি মূল্যবান জমি দখল করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে স্থানীয় ছৈয়দ আলম গং। তারা দীর্ঘদিন জমিটি দখল করার জন্য ভুক্তভোগী ছৈয়দ আহমদ ও তার পরিবারের সদস্যদের মারধরসহ নানাভাবে নির্যাতন ও হয়রানি করে আসছেন। এর প্রেক্ষিতে ছৈয়দ আলমের দখল স্বত্ত¡ স্থিতিতাবস্থায় বজায় রাখতে প্রতিপক্ষ ছৈয়দ আলম গংয়ের বিরুদ্ধে ১ ফেব্রæয়ারি ১৪৪ ধারা জারি করেছে আদালত। কিন্তু তাদের পক্ষ নিয়ে উখিয়া থানার ওসি (তদন্ত) সালাহ উদ্দীন ও ইনানী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোজাম্মেল হোসেন জমির মালিক বৃদ্ধ ছৈয়দ আহমদকে জমি ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য বেশ কিছুদিন হুমকি দিচ্ছেন। চলে না যাওয়ায় গত মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে ওসি (তদন্ত) সালাহ উদ্দীন ও ইনানী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোজাম্মেল হোসেনের একদল বৃদ্ধ ছৈয়দ আহমদের বাড়িতে গিয়ে বাড়িতে ব্যাপক ভাংচুর করে। এসময় বাড়ির সদস্যদের মারধর করে। এমনকি মেয়েদের শ্লীলতাহানিরও চেষ্টা করা হয়।
এসময় উখিয়া থানার ওসি (তদন্ত) সালাহ্ উদ্দিন আমার পরিবারকে হুমকি দিয়ে বলেছে- এ জমির দখল ছেড়ে না দিলে ও জমি থেকে চলে না গেলে পরিনাম ভয়াবহ হবে বলে হুমকি প্রদর্শন করেন। পরবর্তীতে ইনানি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সবাইকে অকথ্য ভাষায় গালি -গালাজ করে বলছে তুদের সবাইকে তুলে নিয়ে যাবে বলে হুমকি দেন বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ছৈয়দ আহমদ।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী ছৈয়দ আহমদ বলেন, আদালতের ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে পুলিশ জমি দখলের যে চেষ্টা করেছে আদালত অবমাননা। পুলিশ তো এই কাজ করতে পারে না। মূলত প্রতিপক্ষ থেকে মোটা অংকের টাকা ঘুষ নিয়ে ওসি (তদন্ত) সালাহ উদ্দীন ও ইনানী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোজাম্মেল হোসেন এই অপকর্মটি করেছেন।
‘আইন হাতে তুলে নিয়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের এই জঘন্য আচরণে আমরা পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি’ বলেন ভুক্তভোগী ছৈয়দ আহমদ।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী ছৈয়দ আহমদ এর নাতি ছাত্রলীগ নেতা সালাহ উদ্দীন জাসেদ অভিযোগ করে বলেন, জমি ছেড়ে দেয়ার জন্য উখিয়া থানার ওসি (তদন্ত) সালাহ উদ্দীন ও ইনানী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোজাম্মেল হোসেন মোবাইল ফোনে তার দাদা ছৈয়দ আহমদকে কয়েকবার কট্টরভাষায় হুমকি দিয়েছেন। এতে ছৈয়দ আহমদ হার্টজনিত গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। যার কারণে কক্সবাজার সদর হাসপাতাল ও ইউনিয়ন হাসপাতালে বেশ কয়েকদিন চিকিৎসা নিয়েছেন। এখনো অসুস্থ। শুধু তাই নয়; আমি বিষয়টি কাজ করায় আমাকেও ৮/১০ মিথ্যা মামলায় আসামী করার হুমকি দিয়েছেন ওসি (তদন্ত) সালাহ উদ্দীন।
অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে ইনানী ফাঁড়ির ইনচার্জ মোজাম্মেল হোসেন বলেন, ‘ওসি (তদন্ত) সালাহ উদ্দীন স্যারের নির্দেশে ওনার সাথে আমি অভিযানে গিয়েছি। বিষয়টি নিয়ে আমি কথা বলতে পারবো না। সব ওসি (তদন্ত) স্যার জানবে।’
তবে এটি তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেন তিনি।
অভিযোগের ব্যাপারে জানতে উখিয়া থানার ওসি (তদন্ত) সালাহ উদ্দীনের সাথে মুঠোফোনে বেশ কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তিনি কল ধরেননি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *