কক্সবাজার শহরে রোহিঙ্গাদের ভোটার হতে সহায়তা করছে কমিশনার রাজ বিহারী দাশ!

আইন ও প্রশাসন পৌরসভা প্রধান সংবাদ মাদক রোহিঙ্গা ক্যাম্প সীমান্ত সংকট স্থানীয় বার্তা
  • 918
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    918
    Shares

নিজস্ব প্রতিবেদক::

কক্সবাজার পৌর এলাকার একমাত্র হিন্দু অধ্যুষিত এলাকা ৮ নং ওয়ার্ডে অসংখ্য রোহিঙ্গা এখন বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে বসবাস করছে। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য মতে কমপক্ষে দেড় থেকে দুই হাজার রোহিঙ্গা এখন বাংলাদেশি নাগরিকত্ব নিয়ে এই এলাকায় সাধারণদের সাথে মিশে গেছে। আর এসব রোহিঙ্গাদের ভোটার হতে সহায়তা করার অভিযোগ উঠেছে- এই ওয়ার্ডের বার বার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি রাজ বিহারী দাশের বিরুদ্ধে।

তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ কক্সবাজার পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ড বৈদ্যঘোনা ও খাজা মঞ্জিল এলাকায় বার বার নির্বাচিত একজন কাউন্সিলর।

জানা যায়- তিনি টানা ২০ বছর ধরে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বেশ কিছু রোহিঙ্গা ও কিছু ভারতবাসী লোকজনকে দেদারসে জাতীয় সনদ পত্র জন্ম নিবন্ধ ও ভোটার আইডি কার্ড পাইয়ে দিতে সহায়তা করেছেন। আর এর বিনিময়ে হাতিয়ে নিয়েছেন লাখ লাখ টাকা।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়- পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ড ও ৯ ওয়ার্ড এলাকায় বসবাসরত বেশিরভাগ লোকই রোহিঙ্গা। কিন্তু তারা এখন রোহিঙ্গা হিসেবে পরিচিত নন। তারা এখন লক্ষ লক্ষ টাকার বিনিময়ে বাংলাদেশের নাগরিক বনে শেকড় গেড়েছেন। আর এসব করার সূযোগ করে দিয়েছে সংশ্লিষ্ট এলাকার জনপ্রতিনিধিরা। তার মধ্যে বেশির ভাগই রোহিঙ্গা ও ভারতবাসী লোকজনকে ভোটার করিয়েছে বার বার নির্বাচিত কাউন্সিলর রাজ বিহারী দাশ।

সরেজমিনে জানা যায়- অত্র এলাকার রোহিঙ্গারা এখন কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় সরকারি খাসজমি দখল করে ঘরবাড়ি ও বিলাস বহুল বিল্ডিং তৈরি করেছে। এভাবে করে তারা সরকারের কোটি কোটি টাকার সম্পদ বিনষ্ট করছে। এদের মধ্যে আবার একটি বড় অংশ জড়িত রয়েছে মরণ নেশা মাদক ব্যবসার সাথে। দীর্ঘকাল যাবৎ এই অঞ্চলে ইয়াবার সহজলভ্যতার কারণে এবং অন্য কোনো কর্মে সহজেই প্রবেশ করতে না পারায় বাংলাদেশি এনআইডি কার্ড প্রাপ্ত এসব রোহিঙ্গারা এখন পুরোপুরি ইয়াবা ব্যবসায় ঝুঁকেছে। এভাবে করে পুরো এলাকাকে তারা মাদকের গোড়াউন বানিয়ে ফেলেছে। ফলে ধ্বংস হচ্ছে যুব সমাজ।

বর্তমান ৮ নং ওয়ার্ড এলাকায় রোহিঙ্গা বসতির কারণে মাদকের গোড়াউনে পরিনত হয়েছে। রাজ বিহারী দাশ তাদেরকে ভোটার করে দেওয়ায় বদলা হিসেবে রোহিঙ্গা ইয়াবা ব্যবসায়ীদের নিকট হতে পেয়ে থাকেন মোটা অংকের মাশোয়ারা। এভাবে করে তিনিও এখন বনে গেছেন বিপুল পরিমাণ সম্পত্তির মালিক। ওই এলাকায় সরেজমিনে ঘুরে অসংখ্য রোহিঙ্গার বাংলাদেশি এনআইডি কার্ড প্রাপ্তির প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। যা আমাদের হাতে সংরক্ষিত আছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ- একবার নির্বাচিত কাউন্সিলররা রোহিঙ্গাদের খুব বেশি ভোটার করতে পারেননি। কিন্তু বার বার নির্বাচিত হওয়ার সুবাদে কাউন্সিলর রাজ বিহারী দাশ ৮ নং ওয়ার্ডে অজস্র রোহিঙ্গাকে টাকার বিনিময়ে ভোটার করিয়ে নিয়েছেন। অথচ এসব রোহিঙ্গাদের বেশিরভাগ আত্বীয় স্বজন এখনও রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় রয়েছে। অভিযোগে তারা আরও জানান- এখানে ভোটার হওয়া রোহিঙ্গারা বীর ধর্পে স্থানীয়দের মতো প্রভাব খাটিয়ে নানা ধরনের অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে ওই এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যথেষ্ট অবনতি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সনাতনী সম্প্রদায়ের লোকজন। পাশাপাশি কাউন্সিলর রাজ বিহারী দাশের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে অবহেলা এবং রোহিঙ্গাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করার বিনিময়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার বিষয়টিও তদন্তের দাবি রাখে বলে জানিয়েছেন হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন।

এবিষয়ে অভিযুক্ত কাউন্সিলর রাজ বিহারী দাশের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি প্রতিবেদককে বলেন- তার জ্ঞাতসারে কোনো রোহিঙ্গাকে ভোটার করা হয়নি। তবে কৌশলে হয়তো কয়েকজন রোহিঙ্গা ঢুকে পড়েছে। ঢুকে পড়া রোহিঙ্গাদের চিহ্নিত করে কখনো আইনের হাতে সোপর্দ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিলো কীনা জানতে চাইলে তিনি ‘না’ সূচক জবাব দেন।

উল্লেখ্য, রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশি নাগরিক হতে সহায়তা করার অভিযোগে গত ২৮ মার্চ কক্সবাজার পৌরসভার চারজন প্রভাবশালী কাউন্সিলরকে আটক করে দুদক।