খরুলিয়ার ইয়াবা ব্যবসায়ী কামাল বেপরোয়া, মিথ্যা মামলাসহ নানা অপকর্মে অর্থায়নের অভিযোগ

খরুলিয়ার ইয়াবা ব্যবসায়ী কামাল বেপরোয়া, মিথ্যা মামলাসহ নানা অপকর্মে অর্থায়নের অভিযোগ

আইন ও প্রশাসন স্থানীয় বার্তা
  • 39
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    39
    Shares

নিউজ ডেস্ক::

কক্সবাজার সদরের খরুলিয়ায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ইয়াবা ব্যবসায়ী কামাল। আইনের ফাঁক গলে ছাড় পেয়ে এলাকায় ফিরে পুণরায় নব উদ্যোমে ইয়াবা ব্যবসায় মনোনিবেশ করে এই মধ্য বয়সী যুবক। টুকাই থেকে হঠাৎ বিত্তবান বনে যাওয়া এই মাদক ব্যবসায়ী যুবক এখন খরুলিয়ার জন্য দিনে দিনে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে। ইয়াবা ব্যবসা থেকে উপার্জিত বিপুল অর্থবিত্ত ব্যায় করছে নানা অপকর্মে। ফলে খরুলিয়ার সমাজে দেখা দিয়েছে নানারূপ সামাজিক বিশৃঙ্খলা, হানাহানি, অনাচার ও অবিচার। দুর্বল বন্ধনে থাকা পরিবারগুলোতেও কামাল নানা ভাবে প্রভাব বিস্তার করে যাচ্ছে। এমনকি টাকার প্রলোভন দেখিয়ে সংসারী নারীদের সংসার বিচ্ছেদ, মাদক ব্যবসায় জড়িত করা সহ আরও বেশ কিছু গুরুত্বর অভিযোগ পাওয়া গেছে এই যুবকের বিরুদ্ধে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ইয়াবা ব্যবসায়ী কামাল তার একই এলাকার প্রবাসী আমান উল্লাহর স্ত্রী তসলিমা নামে এক গৃহবধুর সাথে দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়া সম্পর্ক চালিয়ে আসছে। পরকীয়া সম্পর্কের সুবাদে কামাল-তাসলিমা তারা উভয়েই খরুলিয়া এলাকায় খুচরা ও পাইকারী ইয়াবা করে যাচ্ছে। বিষয়টি কামালের পরিবারে জানাজানি হলে তার স্ত্রী আসিফা সুলতানা একাধিকবার তসলিমা ও কামালকে সতর্ক করে। সংসার রক্ষা করতে আসিফা তার স্বামী কামালকে এই মিথ্যা সম্পর্ক থেকে মুক্তি দিতে তসলিমাকে মুঠোফোনে দফায় দফায় অনুরোধ জানায়। কিন্তু তসলিমা ও কামাল তাদের যৌথ অংশীদারী ইয়াবা ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে আসিফার অনুরোধকে বারবার প্রত্যাখান করে আসছে। এর সূত্র ধরে গত ৬এপ্রিল সকাল ৮টায় কামালের স্ত্রী আসিফা দলবল নিয়ে পরকীয়া প্রেমিকা তসলিমার উপর হামলা চালায়। এসময় আসিফাও আক্রান্ত হয় বলে জানা যায়। স্থানীয় দোকানদার ও একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে এসব তথ্য জানা যায়।

উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে আসিফা কক্সবাজার সদর মডেল থানায় তার স্বামী কামাল হোসেন, কামালের প্রেমিকা তসলিমা ও তসলিমার ভাই রহিম উল্লাহর বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়- তসলিমা, তার প্রেমিক কামাল ও তার ভাই রহিম উল্লাহ আসিফার উপর হামলা চালায়। এর পরপরই অভিযোগ থেকে রক্ষা পেতে এবং প্রকৃত ঘটনাকে আড়াল করতে ইয়াবা ব্যবসায়ী কামাল মোটা অংকের মিশন নিয়ে নামে। পুরো ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে তসলিমাকে বাদী বানিয়ে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা মামলা রজু করে। জানা যায়- এই মামলা রজু করতে গিয়ে ইয়াবা ব্যবসায়ী কামাল থানার পুরোনো চিহ্নিত এক দালালের মাধ্যমে এক লক্ষ টাকা ঘুষ লেনদেন করে। শুধু তাই নয়- উক্ত মিথ্যা মামলার শিকার পরিবারকে কামাল নানা ভাবে হয়রাণি করে যাচ্ছে এলাকাতেও। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও সাক্ষীদের হুমকি ধমকিও দিচ্ছে বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে অভিযোগ দায়ের করার পর থেকে কামালের স্ত্রী আসিফা রহস্যজনক ভাবে তার দায়ের করা ওই অভিযোগ নিয়ে কোনো ধরণের ফলোয়াপ করেননি। ফলোয়াপ করেননি তদন্তের দায়িত্ব প্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা এস.আই বিভাসও। অভিযোগ তদন্তের বিষয়ে তিনি জানিয়েছেন- অনেকেই তো অভিযোগ করে কিন্তু অভিযোগকারী যদি খোঁজ না নেন তাহলে কিই বা করার থাকে। এমনকি অভিযোগকারী আসিফাকে অভিযোগের সুরাহা করতে একাধিকবার থানায় ডাকা হলেও তিনি আসেননি। অভিযোগের বিষয়ে আসিফা কি কারণে তৎপর হচ্ছেন না জানতে একাধিকবার তার সাথে যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু তিনি মুঠোফোনে সাড়া না দেওয়ায় তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

এদিকে ধারণা করা হচ্ছে আসিফার স্বামী ইয়াবা ব্যবসায়ী কামাল এখানেও মোটা অংকের লেনদেন করে অভিযোগকারীনীকে চুপ রেখেছেন। এরপরপরই উভয়ে পরামর্শ করে একজোট হয়ে কামালের প্রেমিকা তসলিমাকে জিম্মি করে ফেলে। এবং আহত তসলিমাকেই বাদী করে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজনদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করতে বাধ্য করে- এমনটিই বলছেন স্থানীয় সচেতন মহল। অথচ ওই দিন তসলিমার উপর হামলার ঘটনায় তার শ্বশুরবাড়ির কেউই জড়িত ছিলেন না। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন- কামালের স্ত্রী আসিফাই ওইদিন তসলিমার উপর সদলবলে হামলা চালায়।

অন্যদিকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস.আই মোশাররফ জানিয়েছেন- একটি ঘটনায় একাধিক যোগসূত্র থাকতে পারে। পরকীয়ার বিষয়টি যেমন রয়েছে আবার পারিবারিক সমস্যাটিও এড়িয়ে যাওয়া যায় না। এছাড়াও করোনা মহামারীর কারণে লকডাউন থাকায় তদন্তে কিছুটা ধীরগতি হচ্ছে। তবে সবদিক বিবেচনা করে কেউ যেনো অহেতুক হয়রাণির শিকার না হন এবং প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করা যায় সেই তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

এবিষয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুনীরুল গীয়াস জানান- কারও বিরুদ্ধে মামলা হওয়া মানেই সব শেষ হয়ে যাওয়া বিষয়টি এমন নয়। এতটুকু নিশ্চয়তা দিয়ে বলতে পারি, মামলায় নির্দোষ কাউকেই অহেতুক হয়রানি করা হবে না। প্রকৃত দোষীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে। আর অভিযোগটি বিষয়ে যাচাই না করে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না।