ইয়াবার টানে স্বামী সংসার ছাড়লো ৪ সন্তানের জননী রাশেদা!

খরুলিয়ায় পরিবারের ইয়াবা ব্যবসা রক্ষা করতে স্বামী সংসার ছাড়লো ৪ সন্তানের জননী!

আইন ও প্রশাসন প্রধান সংবাদ মাদক সীমান্ত সংকট
  • 16
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    16
    Shares

নিজস্ব প্রতিবেদন::

ইয়াবা ব্যবসার টানে চার সন্তানকে স্বামীর হাতে দিয়ে সংসার ছেড়ে পালালো গৃহবধূ রাশেদা আক্তার (২৫)। গত দুই সপ্তাহ আগে ১৫ মার্চ (সোমবার) কক্সবাজার সদরের ঝিলংজার ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের খরুলিয়া নয়াপাড়া গ্রামে এঘটনা ঘটে। রাশেদা ঘর ছেড়ে পালিয়ে গিয়ে পিএমখালীতে তার বাপের বাড়িতে রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন তার স্বামী ছালাম মিয়া (৩৫)।

ছালাম মিয়া আরও জানান- তার স্ত্রী রাশেদা আগে কখনোই এমন ছিলো না। কিন্তু সম্প্রতি রাশেদা তার অপরাপর তিন মাদক ব্যবসায়ী ভাইদের প্ররোচনায় অর্থের প্রলোভনে পড়ে ইয়াবা ব্যবসার পথে পা বাড়িয়েছে। সে তার ইয়াবা ব্যবসায়ী ভাইদের ইয়াবা বহন করে। বর্তমানে নারীদের দ্বারা ইয়াবা পাচারের কাজ কিছুটা সহজ এং নিরাপদ মনে করায় তার ভাইয়েরা তাকে দিয়ে ইয়াবা পাচার করিয়ে যাচ্ছে। বিনিময়ে পাচ্ছে পাচ্ছে লাখ লাখ টাকা। এমনকি ছালামকেও ইয়াবা ব্যবসার প্রস্তাব দেয় রাশেদা। কিন্তু রাশেদার কথায় রাজি না হলে ছালাম মিয়া একাধিকবার তার স্ত্রী রাশেদার হাতে লাঞ্চিত হয়েছিলেন বলে জানান। সর্বশেষ গত দুই সপ্তাহ পূর্বে সংসার ছাড়ার হুমকি দিয়ে ৪ সন্তানকে রেখে পালালো।

এর ফলে সংসারে অশান্তির আগুন জ্বলছে বলেও ক্ষোভের সাথে মন্তব্য করেন ছালাম মিয়া। এখন ছালাম মিয়া রাশেদার রেখে যাওয়া ৪ সন্তানকে নিয়ে রীতিমতো বেকায়দায় পড়ে গিয়েছেন। তাদের স্বাভাবিক জীবন যাত্রা চরম ভাবে ব্যহত হচ্ছে বলে জানান। বিষয়টি তিনি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যাক্তিদেরও জানানোর পরও কোনো সুরাহা পাচ্ছেন না বলে দাবী করেছেন।

এদিকে রাশেদা যাদের প্ররোচনায় সংসার ছেড়েছেন তার আপন ভাইদের ইয়াবা পাচারে সম্পৃক্ততার বিষয়টি খোঁজ নিলে জানা যায়- আপন তিন ভাই ইয়াবা ব্যবসার সাথে সরাসরি জড়িত। বিভিন্ন সময় তারা ইয়াবাসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে আটক হয়েছিলো। কিন্তু জামিনে বের হবার সাথে সাথে তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠে। রাশেদার অপরাপর তিন মাদক ব্যবসায়ী ভাইয়ের নাম হলো- পিএমখালী ডিকপাড়ার সিকান্দরের পুত্র জুবাইর (২৫), মামুন (২০) এবং ধলু প্রকাশ মমতাজ।

জানা যায়- এই তিন ভাই মূলত রাশেদাকে দিয়ে ইয়াবা পাচার করিয়ে যাচ্ছে। অবৈধ পন্থায় সম্পদ অর্জনের স্বপ্নে বিভোর ৪ ভাইবোন মিলে এখন পিএমখালীতে বাপের বাড়িতে বসে হরদমে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। রাশেদার স্বামী ছালামের অভিযোগ তার স্ত্রী রাশেদাকে তার তিন মাদক ব্যবসায়ী ভাই প্ররোচনা দিয়ে এই পথে চালিত করেছে। ফলে একটি পরিবার আজ ধ্বংসের পথে বসেছে। সন্তানগুলো মা হারা হয়ে অসহায় মানবেতর দিনাতিপাত করছে। তিনি সমাজের মান্যগণ্য ব্যাক্তিদের নিকট এর আশু সমাধান চান বলে জানিয়েছেন।

ছালাম মিয়া জানান, প্রথমদিকে তার স্ত্রী-শালকরা পিএমখালীর খুচরা মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে ইয়াবা সরাবরাহ করে এবং পরবর্তীতে প্রতিমাসে ৫ থেকে ৬ বার টেকনাফ থেকে ইয়াবা নিয়ে এসে পিএমখালী ও আশপাশের এলাকার মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে সরবরাহ ও বিক্রি করতে শুরু করে। তারা অত্যন্ত কৌশলে মাদক ব্যবসার সিন্ডিকেট গড়ে তুলে। তাদের এই অবৈধ মাদক ব্যবসার সিন্ডিকেটে আপন বোন রাশেদাসহ একাধিক নারী ও পুরুষ সহযোগী হিসেবে জড়িত আছে বলে তিনি দাবী করেন।