‘গোলাগুলিতে’ জকির ডাকাতসহ তিন সন্ত্রাসী নিহতের ঘটনায় রোহিঙ্গাদের মিষ্টি বিতরণ

উপজেলা প্রধান সংবাদ মাদক রোহিঙ্গা ক্যাম্প সীমান্ত সংকট স্থানীয় বার্তা
  • 39
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    39
    Shares

শাহীন মাহমুদ রাসেল::

কক্সবাজারের টেকনাফে আলোচিত রোহিঙ্গা ডাকাত জকিরসহ তিন রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী র‌্যাবের সাথে গোলাগুলিতে নিহতের ঘটনায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সাধারন রোহিঙ্গাদের মাঝে স্বস্থি ফিরেছে। তারা মিষ্টি বিতরন করে আনন্দ উল্লাস ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে। পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠাীর মাঝেও স্বস্থি দেখা দিয়েছে।

বুধবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে নয়াপাড়া ও শালবাগান ক্যাম্পের রোহিঙ্গারা সি ব্লকে মিষ্টি বিতরন ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে।

এসময় জকির বাহিনীর হাতে নির্যাতিত সাধারন রোহিঙ্গারা এখানে জড়ো হয়। তারা র‌্যাব ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য দোয়া করে মোনাজাত করেন। ক্যাম্প গুলোতে যাতে আর কোন বাহিনীর জন্ম না হয় সেজন্য প্রশাসনের নজরদারী যাতে অব্যাহত থাকে এমনটাই দাবী করেন।

ফরিদ আলম নামে একজন রোহিঙ্গা জানান, ডাকাত জকির তার ভাইকে হত্যা করেছে। আরেক রোহিঙ্গা নারী জকির বাহিনীর হাতে নিহত শফিউল্লার স্ত্রী জানান, গত ডিসেম্বর মাসে জকির তার স্বামীকে ঘর থেকে ধরে নিয়ে যায়। আজ পর্যন্ত তার লাশের হদিস মেলেনি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন রোহিঙ্গা জানান, নয়াপাড়া ক্যাম্পের পেছনের পাহাড়ে রোহিঙ্গা ডাকাতদের আস্তানা গড়ে উঠেছে। দিনে পাহাড় আর রাতে ক্যাম্প চষে বেড়ায় তারা। খুন, ধর্ষণ, ইয়াবা কারবার, মানবপাচার, অপহরণ- এমন কোনও অপরাধ নেই যা তারা করতো না। পুরো ক্যাম্পের মানুষ জকিরের কাছে জিম্মি হয়ে ছিল। কিন্তু এখন পরিস্থিতি একটু শান্ত হতে পারে।

টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান জানান, বুধবার বিকাল পর্যন্ত থানায় কোন মামলা দায়ের হয়নি। ময়নাতদন্তের পর নিহতদের মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে রয়েছে। এছাড়া জকিরের বিরুদ্ধে টেকনাফ থানায় হত্যা, ডাকাতিসহ ১৩টি মামলা রয়েছে বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, টেকনাফের নয়াপাড়া মৌচনি-শালবন রোহিঙ্গা শিবিরের মাদক-মানব পাচার, চাঁদাবাজি, অপহরণ বাণিজ্য ও দোকান দখল মৌচনি-শালবন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অপরাধ জগৎ নিয়ন্ত্রণ জকির আহমদ ওরফে জকির ডাকাত তার দুই সহযোগীসহ মঙ্গলবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়।