জোয়ারিয়ানালার ইয়াবা অস্ত্র চোরাচালানি জসিম বেপরোয়া

আইন ও প্রশাসন প্রধান সংবাদ মাদক সীমান্ত সংকট
  • 55
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    55
    Shares

নিজস্ব প্রতিবেদন::

কক্সবাজারের রামুতে অস্ত্র চোরাচালানিতে জসিম বেপরোয়া হয়ে উঠেছে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়। তার বিরুদ্ধে ইয়াবা ও আগ্নেয়াস্ত্র পাচার করার অভিযোগ রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। আর এসব আগ্নেয়াস্ত্র আকারে ছোট হওয়ায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে জসিম সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চলে যাচ্ছে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে।

জানা গেছে, জসিম ও তার সিন্ডিকেটের মাধ্যমে রোহিঙ্গা ক্যাম্প এবং মহেশখালী দিয়ে আসা একাধিক পিস্তল উদ্ধার করা হয় কয়েক মাসে। সম্প্রতি কক্সবাজার শহরের পূর্ব কলাতলীর বাদশাহঘোনা এলাকা থেকে দেশীয় তৈরী অস্ত্র ও ১ রাউন্ড গুলিসহ রায়হান (২১) নামের একজনকে গ্রেফতার করে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। তবে রায়হান ওই অস্ত্র জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের হালদার পাড়ার এলাকার আলী আহমদের পুত্র জসিম উদ্দিন কাছ থেকে নিয়ে যায় বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, জসিম প্রথমে ইয়াবা ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন। ইয়াবায় হাত পাকিয়ে অস্ত্র ব্যবসা শুরু করেন। তার নেতৃত্বে গড়ে তোলেন রোহিঙ্গা ক্যাম্প কেন্দ্রিক একটি সিন্ডিকেট। যেখানে রয়েছেন নতুন-পুরাতন মিলিয়ে ১০ থেকে ১২ জনের রোহিঙ্গা। মুলত সিন্ডিকেটে থাকা রোহিঙ্গারাই ইয়াবা ও অস্ত্র পাচার করে আসছেন সহজেই।

জসিমের নেতৃত্বে সিন্ডিকেটটি ইয়াবা ও অস্ত্র এনে প্রথমে জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের রাবার বাগান এলাকার পাহাড়ী ঢাকায় মজুদ করে রাখেন। সেখান থেকে সুযোগ বুঝে জেলাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করে আসছে অবাধে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়াকড়ি বাড়লে অস্ত্র ব্যবসার ধারন পাল্টে নেন জসিম। তখন মহেশখালী কেন্দ্রিক অস্ত্র ব্যবসা চলে তার এনটি দাবী একাধিক সূত্রের।

তবে স্থানীয়রা বলছেন, কিশোর বয়স থেকে জসিম আগ্নেয়াস্ত্র নাড়া চাড়া শুরু করেন। প্রথমে রামুর ঈদগড় কেন্দ্রিক ছিনতাই। ধীরে ধীরে ইয়াবা ব্যবসা, চাঁদাবাজি, ডাকাতির মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ে তিনি। কৈশোর পেরিয়ে যাওয়ার পর হয়ে যান পুরোদস্তুর ইয়াবা ও অস্ত্র ব্যবসায়ী। অস্ত্র আবার ভাড়াও দেন তিনি। অস্ত্র ভাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে ঘটনার গুরুত্ব ও সময় বুঝে দর-কষাকষি করে। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য অস্ত্র ভাড়া দিতে দাম বেশি হাঁকান জসিম। দেশে বন্দুকযুদ্ধ শুরু হলে পালিয়ে যান সৌদিতে। তবে মেজন সিনহা হত্যার পর ১ মাসের মাথায় দেশে ফিরে আসে এবং পুনরায় অস্ত্র ও ইয়াবা ব্যবসা শুরু করেন জসিম।

রাবার বাগান এলাকার স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এই আস্তানায় জসিমের নেতৃত্বে কয়েকজন রোহিঙ্গা কারিগর অস্থায়ী ভিত্তিতে কাজ করেন। মূলত একনলা ও দোনলা বন্দুক, পিস্তল, রাইফেল, পাইপগান ও এলজি তৈরি করেন তারা। সাগরে জেলে নৌকায় ডাকাতি, চিংড়ি ঘের ও লবণ মাঠ দখল, মাদক চোরাচালান, জমি দখল—বেদখলসহ কক্সবাজার জেলায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে এসব অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, দেশি অস্ত্র ক্রেতাদের তালিকায় জোয়ারিয়ানালার কয়েকজন ব্যবসায়ী এবং রাবার বাগান মালিকও রয়েছেন। তারা কেউ সম্পদ রক্ষার জন্য, কেউবা জীবনের নিরাপত্তার জন্য অস্ত্র সংগ্রহ করেছেন জসিমের কাছ থেকে। রাবার বাগান থেকে তার সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অস্ত্র যাচ্ছে রামুর ঈদগড়সহ জেলার বিভিন্ন এলাকায়। এসব আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে সড়ক ডাকাতি, লোকজনের বাসাবাড়ি লুটপাট, ছিনতাইসহ নানা কর্মকাণ্ড চলছে। মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা কিছু রোহিঙ্গাদদের মাধ্যমে জসিম অস্ত্র ব্যবসাটি সহজ করে তুলেছেন বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগীদের দাবী, কারো সাথে সামান্য কথা কাটাকাটি হলে জসিম এক হাতে পিস্তল, অন্য হাতে ধারালো অস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্যে হেঁটে বেড়ান। তখন ভয়ে লোকজন কিছু বলেনা তাকে।

স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য, কিছুদিন আগে এক প্রতিবেশির সাথে বাকবিতণ্ডা হওয়ায় অস্ত্র হাতে সকাল ৯টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত টানা দুই ঘণ্টা মহড়া দেন জসিম। যারা রাস্তায় ছিল তারা তাকে দেখে ভয়ে পালিয়ে যায়। আর যারা ঘরে ছিল তারা বের হওয়ার সাহস করেনি।

সেদিন আতঙ্কে এলাকার কয়েকজন ব্যবসায়ী দোকান বন্ধ করে দেন। অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেওয়ার সময় ওই প্রতিবেশির বাড়ি লক্ষ্য করেও দুটি গুলি ছোড়েন তিনি। ঘটনা এখানেই শেষ নয়। বিকেলে আবারও অস্ত্র নিয়ে ওই এলাকায় হাজির হন জসিম। পুরো সময়টায় এলাকায় ছিল আতঙ্ক।

স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, জসিমের বিভিন্ন ঘটনা স্থানীয় চেয়ারম্যানকে জানালেও তিনি কোন ব্যবস্থা নেন না। স্থানীয় লোকজন বলেন, বেকার জসিম পরে এলাকার প্রভাবশালী কয়েকজন ব্যক্তির অনুসারী হিসেবে কাজ করেন। কিন্তু বেপরোয়া মনোভাবের কারণে কারও সঙ্গেই তাঁর তেমন ঘনিষ্ঠতা নেই। উচ্ছৃঙ্খল কর্মকাণ্ডের কারণে সবাই তাকে ভয় পান।

এইসব বিষয়ে জানতে জসিমের মোঠুফোনে যোগাযোগ করা হলে প্রথমে তিনি তার পরিচয় নিশ্চিত করেন। পরে তার অস্ত্র ও মাদক ব্যবসার ব্যাপারে জানতে চাইলে প্রতিবেদকের সাথে দেখা করতে অনুরোধ করেন এবং পরে তিনি জসিম নই বলে সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করে দেন।

জসিমের অস্ত্রের কারখানা কোথায়? এনিয়ে আগামী পর্ব আসছে…