''ডিজিটাল নিরাপত্তা মামলায় আসামী করতে ১০ লক্ষ টাকা ঘুষ নিয়েছেন ওসি গিয়াস''

”ডিজিটাল নিরাপত্তা মামলায় আসামী করতে ১০ লক্ষ টাকা ঘুষ নিয়েছেন ওসি গিয়াস”

আইন ও প্রশাসন প্রধান সংবাদ স্থানীয় বার্তা
  • 103
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    103
    Shares

সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রলীগ নেতার অভিযোগ—-

সিডব্লিউ প্রতিবেদন::

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুল গীয়াসের বিরুদ্ধে ১০ লক্ষ টাকা ঘুষের বিনিময়ে সরকার দলীয় তিন সাবেক ছাত্রনেতাকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে আসামী করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ২মে (রবিবার) দুপুর দুইটায় কক্সবাজার রিপোর্টাস ইউনিটির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন মামলাটির ভুক্তভোগী সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মুনাফ সিকদার, মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্মলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ওবাইদুল হোসেন ও ব্যবসায়ী গুরা মিয়া।

উক্ত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তারা জানান- গত ২৮ এপ্রিল কক্সবাজার সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মুনিরুল গিয়াস জি.আর-২৭৭/২০২১ নং মামলাটি তার থানায় রুজু করেন। এতে তাদের এজাহার নামীয় ২-৪নং আসামী করা হয়েছে। ১নং আসামী করা হয়েছে শফিক খান নামে একটি ফেইসবুক আইডিকে। মামলার এজাহারের ভাষ্যে দেখা যায়, উক্ত ১নং আসামী শফিক খান নামক আইডি থেকে কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমানের নামে বিভিন্ন মানহানিকর ও অনৈতিক পোষ্ট প্রচার করা হয়েছে। এর সমর্থনে এজাহারের সাথে ১নং আসামীর আইডি থেকে প্রচারিত পোষ্টের স্ক্রীন শট সংযুক্ত করা হয়েছে। উক্ত পোষ্টের সাথে কোন সম্পৃক্ততা ও যোগসুত্র না থাকার পরও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মুনাফ সিকদার, মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্মলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ওবাইদুল হোসেন ও ব্যবসায়ী গুরা মিয়াকে হয়রানিমূলক ভাবে আসামী করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে তারা আরও দাবী করেন- ১নং আসামীর কোন পোষ্টে লাইক, কমেন্ট কিংবা শেয়ার কোনোটাই তারা করেননি। এমনকি এমর্মে মামলাটিতে সংবাদ সম্মেলনকারী আসামীদের বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণও সংযুক্ত করতে পারেননি। ঐ বিতর্কিত ফেইসবুক আইডি কে চালায় তাও তারা জানেন না বলে দাবী করেন। তাদের মতে- বিতর্কিত ওসি শেখ মুনিরুল গিয়াস ও তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোঃ সগীর হোসেন মেয়র মুজিবুর রহমানের যোগসাজসে প্রতিপক্ষের নিকট হতে মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের হয়রানী করতে এবং হীন স্বার্থ চরিতার্থ করার লক্ষ্যে এহেন জঘন্য মামলায় মিথ্যাভাবে আসামী করা হয়েছে।

এসব ঘটনার নেপেথ্যের কারণ হিসেবে সংবাদ সম্মেলনকারীরা জানান- প্রকৃত বিষয় হচ্ছে, গত ১৩ই এপ্রিল দুপুর ০১ টায় কক্সবাজার হোটেল মোটেল জোনস্থ তাদের আত্মীয় ও ঘনিষ্ট রিদুয়ান ছিদ্দিকের মালিকানাধীন “হোটেল স্বপ্ন রিসোর্ট” টি পুলিশের সাথে আতাঁত করে জবর দখলের চেষ্টা চালায় একাধিক ইয়াবা মামলার আসামী ও মেয়র মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্টজন মোঃ নাসির, পিতা- মৃত রিয়াজ, সাং- দক্ষিন পরাবাগ, জালালাবাদ ইউপি, থানা- ঈদগাঁও জেলা কক্সবাজার গং। ওই ঘটনার প্রেক্ষিতে রিদুয়ান ছিদ্দিকের পক্ষে গিয়ে মেয়র ও তার লোকজনদের দ্বারা সংঘটিত জুলুমের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগ নেতা মুনাফসহ অপরাপর ব্যাক্তিগণ প্রতিবাদ করেন। এক পর্যায়ে বাধ্য হয়ে হোটেল মালিক রিদুয়ান ছিদ্দিক জাতীয় সেবা ৯৯৯ এ ফোন করে আইনী সহায়তা নিতে বাধ্য হন। সে সময় কক্সবাজার সদর মডেল থানা থেকে পুলিশ ঘটনাস্থলে যেতে গড়িমসি করে। এক পর্যায়ে ঘটনার ১ ঘন্টা পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নাসির, সবুজসহ ৩জন দুষ্কৃতিকারীকে ঘটনাস্থল হতে হাতে নাতে আটক করে পুলিশ ভ্যানে তুলে। কিন্তু তাৎক্ষনিক মেয়র মুজিবুর রহমানের যোগসাজসে বিতর্কিত ওসি শেখ মুনিরুল গিয়াসের নির্দেশে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে হাতে নাতে ধৃত ৩ জন দুষ্কৃতিকারীকে ছেড়ে দেয় এবং তাদের কথামত বিরোধীয় রিসোর্টে তালা মেরে চাবি ওসি সাহেবের নিকট জমা দেয়।

উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে হোটেল মালিক রিদুয়ান ছিদিকের পক্ষে ১৮ জনকে আসামী করে ওসি সাহেব বরার এজাহার জমা দেন। ওসি সাহেব উক্ত এজাহার নিয়মিত মামলা হিসাবে করেন নাই। উপরন্তু মেয়র মুজিবুর রহমানের যোগসাজসে নাসির গং থেকে ১০ লক্ষ টাকা ঘুষের বিনিময়ে পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো খোরশেদ আলমকে সংবাদদাতা হিসাবে খাড়া করে পরিকল্পিতভাবে জিআর-২৭৭/২০২১ নং মামলাটি মিথ্যাভাবে রুজু করেন।

এবং উক্ত মামলায় মিথ্যাভাবে আমাদেরকে আসামী করে আটকের জন্য পবিত্র রমজান মাসে বাসায় দফায় দফায় হানা দিচ্ছেন। এছাড়া বিতর্কিত ওসি সাহেব আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করত: এখতিয়ার বহির্ভূতভাবে রিসোর্টের চাবি নিজ হেফাজতে রেখে দিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলণকারীরা ওসি মনিরুল গীয়াসের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন- তিনি যোগদানের পর থেকেই কক্সবাজারের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। তিনি জনসাধারণের কাছে নিজে খুবই সাধু সাজেন। অথচ চারিদিকে দালালের মাধ্যমে কক্সবাজার সদর মডেল থানাকে ঘুষের আখড়ায় পরিণত করেছেন। এই পর্যন্ত তিনি অনেক অসহায় মানুষের জায়গা-জমি জবর দখল করে দিয়েছেন মোটা অংকের উৎকোচের মাধ্যমে। এছাড়াও শত শত মিথ্যা মামলা রুজু করেছেন। তার অত্যাচারে কক্সবাজারের ভোক্তভুগি মানুষের প্রাণ বর্তমানে ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। কক্সবাজার সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মুনিরুল গিয়াস জি.আর ২৭৭/২০২১ নং মামলায় আমরা নিম্ন স্বাক্ষরকারীগণ সম্পূর্ণ নির্দোষ। বে-আইনীভাবে আমাদের নিকটাত্মীয়ের রিসোর্ট জবর দখলে প্রতিবাদ করায় আমাদের উক্ত মামলায় জড়িত করা হয়েছে।

অথচ এজাহারের ভাষ্য মতে, আমাদের বিরুদ্ধে কোন ধরণের অভিযোগ নাই। আমরা আপনাদের মাধ্যমে কক্সবাজার জেলার মাননীয় পুলিশ সুপার মহোদয়ের নিকট বিনীতভাবে জানাতে চাই, এই মামলা থানা কর্তৃপক্ষ থেকে হস্তান্তর করে সি.আই.ডি. পি.বি.আই, ডিবি কিংবা যে কোন নিরপেক্ষ এজেন্সিকে তদন্তভার হাওলা করে আমরা নির্দোষ ব্যক্তিগণকে মামলার দায় হতে অব্যাহতি প্রদান করা হোক। আপনাদের মাধ্যমে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয় মাননীয় আইজি মহোদয় মাননীয় ডিআইজি মহোদয় ও মাননীয় পুলিশ সুপার মহোদয়ের নিকট এই আবেদন জানাতে চাই, কক্সবাজার সদর মডেল থানার বিতর্কিত ও দুর্বৃত্ত ওসি শেখ মুনিরুল গিয়াসের অপকর্মের বিষয়ে বিভাগীয় তদন্ত পূর্বক বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হোক এবং অনতিবিলম্বে তাকে অত্র থানা থেকে প্রত্যাহার করা হোক।