পারিবারিক কলহের জের ধরে জামাইয়ের উপর শ্বশুরবাড়ির লোকজনের হামলা, বাড়ি ভাঙচুর নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার লুট

পারিবারিক কলহের জের ধরে জামাইয়ের উপর শ্বশুরবাড়ির লোকজনের হামলা

আইন ও প্রশাসন স্থানীয় বার্তা
  • 9
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    9
    Shares

নিজস্ব প্রতিবেদক::

টেকনাফের হোয়াইক্যংয়ে স্বামী স্ত্রীর মাঝে ভুল বুঝাবুঝিকে কেন্দ্র করে মেয়ের জামাইয়ের উপর ভাড়াটে সন্ত্রাসী লেলিয়ে দিয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। গতকাল ২১ এপ্রিল বুধবার রাত ৯টার দিকে এঘটনা ঘটে। এসময় হামলায় গুরুত্বর আহত হয় মেয়ের জামাই আব্দুল খালেক ও তার মা দিলদার বেগম। এবং ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে চলে যাওয়ার সময় ঘরের আলমারিতে রক্ষিত নগদ ৮০ হাজার টাকা, কানের দুল, গলার চেইন, কাপড় চোপড়, চেক বই, রিসিভ বই, মোবাইল ও মানি ব্যাগ লুট করে নিয়ে যায়। এছাড়াও বাড়ির প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ভাংচুর করে।

ভুক্তভোগী আব্দুল খালেক জানান- দাম্পত্য জীবনের ছোটো খাটো বিষয়ে কথাকাটাকাটির জের ধরে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন এই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটিয়েছে। কোনো কিছু বুঝে উঠার আগেই ১০/১২ জনের একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ পালংখালী থেকে এসে তার ঘরবাড়িতে হামলা চালায়, ভাঙচুর করে, শেষে লুটপাট চালায়।

হামলাকারীদের মধ্যে যাদের চিহ্নিত করতে পেরেছেন বলে তিনি দাবী করেছেন তারা হলেন- ৫নং পালংখালীর ৭নং ওয়ার্ডের ঘোনাপাড়া গ্রামের আব্দুল গফুরের পুত্র আলী আহম্মদ (প্রকাশ ইয়াবা আলী আহম্মদ), নুর মোহাম্মদ (প্রকাশ চোরা ভুলু), সৈয়দ আকবর, আলী আকবর ও একই এলাকার মাদকাসক্ত যুবক রুস্তম আলী। এছাড়াও অজ্ঞাত আরও ৭/৮জন ছিলো যাদের চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি বলে দাবী করেন আব্দুল খালেক।

অন্যদিকে আবুল খালেকের স্ত্রী সুরমা আক্তারের বক্তব্য জানতে চাইলে মুঠোফোনে জানান- খালেক বখাটে ছেলে। তার এই সংসার আর ভালো লাগছে না। তাই তিনি এভাবে সংসার ছেড়েছেন। তিনি আরও বলেন- উপরের নির্দেশ রয়েছে তাই তিনি এবিষয়ে আর কোনো কথা বাড়াতে চান না। উপরের নির্দেশটা কার জানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর না দিয়ে ফোন লাইন কেটে দেন।

জানা যায়- আব্দুল খালেক একজন এনজিও কর্মী। অভাব অনটনের সংসারে তিনি বারবার তার স্ত্রীকে নানা ভাবে বুঝ দিয়ে সংসার চালিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু মাস শেষে গত কয়েকদিন আগে আব্দুল খালেক বেতন পাওয়ার পর তার স্ত্রী বিনা প্ররোচনায় ওই টাকার জন্য চাপ দিতে থাকে। উক্ত টাকা স্ত্রীর হাতে তুলে না দিলে উভয়ের মাঝে বাকবিতন্ডা হয়। এর জের ধরে মেয়ে পক্ষের লোকজন সদলবলে এসে হামলা চালায় বলে স্থানীয় একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান।

এঘটনায় টেকনাফ থানায় অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী আব্দুল খালেক। ঘটনার বিষয়ে টেকনাফ থানাস্থ হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নুরে আলম জানান- তিনি বিষয়টি অবগত আছেন। এখনও থানার নির্দেশনা আসেনি। নির্দেশনা এলে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।