ব্যবসায়ীদের সাথে সরকারের কোন শত্রুতা নেই : ইউএনও চকরিয়া

আইন ও প্রশাসন উপজেলা চট্টগ্রাম মুক্তমত সংগঠন
  • 467
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    467
    Shares

করোনা সংক্রমণ মোকাবিলায় চকরিয়ায় ব্যবসায়ীদের সাথে প্রশাসনের বৈঠক

স্টাফ রিপোর্টার (সিডব্লিউ) : মহামারি করোনা ভাইরাস সংক্রমণের দ্বিতীয় ধাপ মোকাবিলায় সরকার ঘোষিত লকডাউন কার্যকর তথা বাস্তবায়ন ও পবিত্র মাহে রমযানকে ঘিরে আইন শৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পৌরশহরের ব্যবসায়ীদের সাথে উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশের যৌথ আয়োজনে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৬এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে চকরিয়া থানার কনফারেন্স রুমে অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাকের মোহাম্মদ যুবায়েরের সভাপতিত্বে ও থানার অপারেশন অফিসার মোজাম্মেল হকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে ব্যবসায়ীদের উদ্দ্যেশ্য করোনা পরিস্থিতি ও লকডাউন নিয়ে দিক-নির্দেশনামূলক খোলামেলা মতবিনিময় করেন চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সৈয়দ শামসুল তাবরীজ ও কক্সবাজার সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার (চকরিয়া সার্কেল) মো. তফিকুল আলম।

এতে অংশগ্রহণ করে ব্যবসায়ীদের পক্ষে নিজ নিজ মতামত উপস্থাপন করেন ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের নুরুল আমিন, আজিজুল হক, মো.নুরুস শফি, আবদুল হামিদ, মোহাম্মদ রফিক, মো.মনছুর আলম ও রায়হানুল হক রিপন।এএসপি চকরিয়া সার্কেল মো.তফিকুল আলম বলেন, দেশের মানুষের জীবন বাঁচাতে ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ যত ঝুঁকিই থাকুক না কেনো করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে এবং যে কোনো প্রয়োজনে পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা সব সময়ই মাঠে থাকবে।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সৈয়দ শামসুল তাবরীজ বলেন, ব্যবসায়ীদের সাথে সরকারের কোন শত্রুতা নেই। মানুষের জীবন বাঁচানোর জন্য সরকার এ লকডাউন ঘোষনা করেন। মানুষের জীবন বাঁচানো আগে, তারপর জীবিকা। লকডাউন ঘোষনা হওয়ার পর থেকে মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতে রাতে-দিন প্রহরী হিসেবে মাঠে কাজ করে যাচ্ছি। তাছাড়া আমার পাশাপাশি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে এসিল্যান্ডও মাঠে আছে। পুলিশ বাহিনীর সদস্যরাও নিরলসভাবে মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিতে কাজ করে যাচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, লকডাউন কার্যকরে করোনার বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীদের আন্দোলন করে লাভ নেই। তবে বর্তমানে করোনা সংক্রমণের হার বৃদ্ধিতে দেশের পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে সেটা উপলব্ধি করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এ লকডাউন সিদ্ধান্ত নেয়। আমরা তো মানুষ, কিন্তু সরকারি দায়িত্বে থাকায় পরিবার পরিজন ছেড়ে আপনাদের সুরক্ষা রাখার জন্যই মাঠে আছি। আপনাদের বাঁচাতে পারলেই তাহলে তো ব্যবসা। অনেক ব্যবসায়ী কষ্টে আছেন সে বিষয়টাও আমরা অনুধাবন করি। তাই বিগত সময়ে টানা লকডাউনে ব্যবসায়ীরা যেভাবে সহযোগিতা করেছে প্রশাসনকে, আশা করবো এবারও তারা একইভাবে সেই সহযোগিতাটি অব্যাহত রাখবে।

ইউএনও শামসুল তাবরীজ বলেন, সামনে পবিত্র মাহে রমজান ঘিরে ব্যবসায়ীর যে চিন্তা ধারা তা মাঠ পর্যায়ে কিভাবে ব্যবসা সচল রাখা যায় এবং ব্যবসা নিয়ে কি করতে হবে সে বিষয়ে আমি কাউকে প্রতিশ্রুতি দিতে পারবোনা। তবে সরকার রমজানের সময়ে যে সিদ্ধান্ত নেবে সেই প্রেক্ষিতে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে তিনি ব্যবসায়ীদের জানান।