ভয় দেখিয়ে বৌদ্ধ গৃহবধুর দুই লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিলো লম্পট নুরুল হক!

ভয় দেখিয়ে বৌদ্ধ গৃহবধুর দুই লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিলো লম্পট নুরুল হক!

আইন ও প্রশাসন প্রধান সংবাদ স্থানীয় বার্তা
  • 74
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    74
    Shares

নিজস্ব সংবাদদাতা::

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক বৌদ্ধধর্মাবলম্বী গৃহবধুর (২২) ব্যাক্তিগত ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে নগদ ২লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে মুসলিম ধর্মাবলম্বী দুই লম্পট। অভিযুক্ত এই দুজন হলো- উখিয়ার কুতুপালং পশ্চিম পাড়ার ৯নং রাজাপালং ইউনিয়নের হাজী আব্দুস সালামের পুত্র নুরুল হক (৪৫) এবং মৃত দরবেশ আলীর পুত্র ফজলুর রহমান (৪২)। শুধু তাই নয়- টাকা দেওয়ার পরও ওই নারীকে নিয়মিত উত্যক্ত করে যাচ্ছে তারা। এমনকি নানা ধরণের ভয়ভীতি দেখিয়ে আরও বেশি অর্থ আদায়ে তৎপর রয়েছে এই দুই লম্পট।

সূত্রে জানা যায়- গত বছরের নভেম্বর মাসের শুরুর দিকে ঘটনার সূত্রপাত হয়। পরে ২৩ ডিসেম্বর বহু নাটকীয়তা ও প্রতারণার ফাঁদে ফেলে ওই নারীর কাছ থেকে ২লক্ষ টাকা আদায় করে নেওয়া হয়। ঘটনার বিবরণে ভুক্তভোগী নারী জানান- তার স্বামী প্রবাসী হওয়ায় যাবতীয় কেনাকাটা ও আর্থিক লেনদেনের জন্য তাকে বাহিরে যেতে হয়। মূলত এখান থেকে কেনাকাটা ও বিকাশে নগদ অর্থ উত্তোলন করতে গিয়ে স্থানীয় মুদি দোকানদার ও বিকাশ ব্যবসায়ী নুরুল হকের সাথে পরিচয় ঘটে। পরবর্তীতে বিকাশ ব্যবসায়ী নুরুল হক কৌশলে তার ব্যাক্তিগত ছবি সংগ্রহ করে। এবং তাতে বিভিন্ন অশ্লীল ও নগ্ন নারীদের ছবি চেহারার সাথে জুড়ে দিয়ে ওই বৌদ্ধ নারীকে ক্রমাগত ব্ল্যাকমেইল করতে থাকে নুরুল হক ও তার আরেক সহযোগী লম্পট ফজলুর রহমান।

একপর্যায়ে ওই গৃহবধু নারী তার নোংরা ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে না দেওয়ার শর্তে লম্পটদ্বয়ের সাথে আপোস করতে রাজী হন। নিজের পরিবার, সংসার ও সামাজিক মান মর্যাদার কথা ভেবে তিনি এই উদ্যোগ নিয়েছিলেন। সর্বশেষ গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর এক শালিসী বৈঠকের আয়োজন করে নুরুল হক ও ফজলুর হাতে নগদ ২লক্ষ টাকা প্রদান করা হয়। এঘটনায় তিনি স্থানীয় কয়েকজনকে সাক্ষীও করেন। কিন্তু প্রাথমিক ভাবে দুই লক্ষ টাকা দেওয়ার পর সম্প্রতি আবার নতুন করে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে তারা। ফেসবুকে ফেইক আইডি খুলে ফের টাকাও দাবী করেছে।

এমতাবস্থায় ওই নারী পড়েছেন চরম বিপাকে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় সংসারটিও ভাঙতে বসেছে। আত্মীয় স্বজনদের কাছেও শিকার হচ্ছেন অবহেলা ও প্রবঞ্চনার।

এঘটনায় তিনি বাদি হয়ে উখিয়া থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন।