রামুর জোয়ারিয়ানালায় ৩টি নারিকেল গাছ এক দিনমজুর পরিবারের আতঙ্ক

আইন ও প্রশাসন প্রধান সংবাদ স্থানীয় বার্তা
  • 13
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    13
    Shares

শাহীন মাহমুদ রাসেল:

প্রায় নুইয়ে পড়া বৃহদাকার তিনটি নারিকেল গাছ দিন মজুরের টিনের চালের উপর গিয়ে ঠেকেছে। যেকোন সময় ভেঙ্গে পড়ার আতঙ্কে মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে দিনযাপন করছে আট সদস্যদের পরিবারটি। ইতিমধ্যে নুইয়ে পড়া নারিকেল গাছের ডাব পড়ে আহত হয়েছেন সেই দিনমজুর পরিবারের শিশুসহ অন্তঃসত্ত্বা নারী।

কক্সবাজারের রামু উপজেলার জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের হালদার পাড়া এলাকায় এই ঘটনাটি উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। যেকোন সময় গাছ পড়ে প্রাণনাশের আশংকা করছেন ওই এলাকার সচেতন মহল।

জানা যায়, ফররুখ আহমদ নামের এক প্রতিবেশির ৩টি নারিকেল গাছ জলবায়ু পরিবর্তনের সূত্র ধরে শক্তিমত্তা কমে ধিরে ধিরে গাছগুলো বাঁকা হয়ে কালু নামের এক প্রতিবেশি দিনমজুরের বাড়ীর চালের সাথে লেগে যায়। এরপরও তারা শক্তিমান হওয়ার কারণে দিনমজুর পরিবারটি ঝুঁকিপুর্ণ গাছগুলোর ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হলেও কোন রকম কর্ণপাত না করে উল্টো হুমকি দেয় বিভিন্নভাবে।

ভুক্তভোগী কালু অভিযোগ করে বলেন, গত মাস দুয়েক আগে গভীর রাতে ওই নারিকেল গাছ থেকে ডাব পড়ে আমার পুত্রবধু তাসমিন এবং তার মেয়ে নোহা মনি গুরুতর আহত হয়। এরপর আমি তাদেরকে গাছগুলো কেটে ফেলার জন্য অথবা রশি দিয়ে অন্যত্র টানা দিতে অনুরোধ করার পরও কোন ধরনের কর্ণপাত করছেন না। উল্টো আমাকে বাড়ী-ঘর ভেঙ্গে অন্যত্র চলে যাওয়ার জন্য হুমকি দেন গাছ মালিকের ছেলে জসিম।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ৩টি নারিকেল গাছ যেন একটি মৃত্যু ফাঁদ হয়ে দাড়িয়ে আছে। দমকা হাওয়া অথবা ঝড়ো বাতাস হলে যেকোন মুহুর্তে দিনমজুর কালুর বাড়ীর উপর পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে প্রাণহানীর সম্ভাবনা রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, শতবর্ষী ৩টি নারিকেল দিনমজুর কালুর বাড়ীর উপরে চালের সাথে লাগানো অবস্থায় দাড়িয়ে আছে। যে কোন মহুর্তে বড়-ছোট্র ডাল ভেঙ্গে পড়ে একটা দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তারা এলাকার প্রভাবশালী হওয়ায় কারো কথা কর্ণপাত করছেন না।

এব্যাপরে গাছের মালিকের ছেলে জসিম উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমাদের হাটার রাস্তাটা সরু হয়ে গেছে। চালাচলের রাস্তাটা বড় করে না দিলে গাছগুলো কাটার কোন শ্রশ্নই আসেনা।

গাছ পড়ে যদি প্রাণহানীর ঘটনা ঘটে এমন প্রশ্নের জাবাবে জসিম বলেন, গাছ পড়ে তাদের পরিবারের সবাই মরে গেলেও তাতে আমার কিছু আসে যায় না।

জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল শামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, এবিষয়ে আগে কেউ অভিযোগ করেনি। আমার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি সুরাহা করে দেবেন বলে আশ্বস্ত করেন।