সুন্দর সমাজ বিনির্মাণে যোগ্য ও সৎ প্রার্থীকে নির্বাচিত করা ঈমানের একান্ত দাবি : ফোরকান

অন্যান্য ধর্ম পৌরসভা মুক্তমত
  • 118
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    118
    Shares

স্টাফ রিপোর্টার :

আসন্ন ১১এপ্রিল চকরিয়া পৌরসভা নির্বাচনে ৮নং ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর পদপ্রার্থী চকরিয়া পৌরসভার সাবেক প্যানেল মেয়র ও সাবেক ছাত্রনেতা বিশিষ্ট সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগি শহিদুল ইসলাম ফোরকান প্রিয় এলাকাবাসীসহ সকলের নিকট দোয়া ও সহযোগিতা চেয়ে বলেছেন, বর্তমান সময়ে মানুষ গুজবে কান দিতে পছন্দ করে বেশি। গুজব ছড়িয়ে পুরো সমাজকে বিভ্রান্তির ঘোলা পানিতে ভাসাতে এক শ্রেণির মানুষের তৎপরতাও কম নয়। তাই নিজ বিবেক বুদ্ধি আর একজন মুসলমান হিসেবে নৈতিক দায়িত্ববোধ থেকে যোগ্য ও সৎ প্রার্থীকে ভোট দিয়ে সুন্দর সমাজ বিনির্মাণে এগিয়ে আসা ঈমানের একান্ত দাবি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

রোববার (২১মার্চ) সন্ধ্যা ৬টার দিকে তিনি নিজ ফেসবুক টাইমলাইনে এমন বার্তা জানান দিতে এটি পোস্ট করেন কাউন্সিলর পদপ্রার্থী তরুণ জননেতা শহিদুল ইসলাম ফোরকান। যা নিম্নে হুবুহু তুলে ধরা হয়েছে।

আসছে নির্বাচন,,,
ভোট কাকে দিবেন?কেন দিবেন?ইসলাম কি বলতে চাই?
আমাদের সমাজে ভোট দেওয়ার কিছু নিয়ম হলো, সে আমার ভাতিজা, এ বারে ভোটটা তাকেই দিতে হবে।
ওনি আমার চাচা লাগে, ভোট তাকে না দিলে বেইমান হয়ে যাবো, সে আমার এলাকার লোক,তাকে ভোট না দিয়ে কেমনে পারি?

এসবের উত্তরে ইসলাম কি বলতে চাই, জেনে আসি।
ইসলামের দৃষ্টিতে ভোট হচ্ছে ৩টি বিষয়ের সমষ্টি।
১/ সাক্ষ্য প্রদান করা:
কোন প্রার্থী কে ভোট দেওয়া মানে – আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে,লোকটি ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালনে সৎ ও যোগ্য।
আর ওনি আমার চাচা লাগে,নানা লাগে,আমার এলাকার লোক বলে বিবেচনা না করে অযোগ্য ব্যক্তিকে ভোট দেওয়া মানে মিথ্যা সাক্ষী দেওয়া।
আল্লাহ তা’য়ালা বলেন;
‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর জন্য সাক্ষ্য প্রদানে ন্যয়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে। যদিও তা তোমাদের নিজেদের কিংবা পিতা-মাতা অথবা নিকটাত্মীয়দের বিরুদ্ধে হয় (সুরা নিসা : আয়াত ১৩৫)
এখন আপনি ঠিক করুন সত্য সাক্ষ দিবেন না কুরআনের আয়াতের বিরোধিতা করে মিথ্যা সাক্ষ দিবেন?

২/ সুপারিশ করা:
কোনো ব্যক্তি ভোট দেয়ার অর্থই হলো যে, সে এ ব্যক্তিকে সৎ ও যোগ্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার ব্যাপারে সুপারিশ করছে কিংবা তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করছে।
যে ব্যক্তি সৎকাজের জন্য কোনো সুপারিশ করবে তা থেকে (সৎ কাজের) একটি অংশ পাবে। আর যে ব্যক্তি মন্দ কাজের সুপারিশ করবে সে তার (মন্দ কাজের) একটি অংশ পাবে। আর আল্লাহ প্রতিটি বিষয়ের সংরক্ষণকারী।’ (সুরা নিসা : আয়াত ৮৫)
এখন আপনি ঠিক করুন সৎ লোক কে সুপারিশ করে সোওয়াবের অংশ নিবেন না অসৎ লোককে ভোট দিয়ে গুনাহের অংশ নিবেন।

৩/ প্রতিনিধিত্বের ক্ষমতা প্রদান:
মনে রাখতে হবেভোট প্রদান করা শুধু ব্যক্তির সঙ্গেই সীমাবদ্ধ নয় বরং প্রতিনিধিত্ব নির্বাচনে ভোটার ও প্রার্থীর বিষয়টি ব্যক্তি জীবন থেকে জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় জীবন পর্যন্ত বিস্তৃত। তাই ভোটারের যেমন উচিত সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দেয়া আবার নির্বাচিত জনপ্রিতিনিধির উচিত ব্যক্তি জীবন থেকে রাষ্ট্রীয় জীবন পর্যন্ত সার্বিক বিষয়ে সঠিক ও ন্যয়সঙ্গত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা। আর বিপরীত হলে ভোটার ও প্রার্থী উভয়কেই অপরাধের দায়ভার ও শাস্তি ভোগ করতে হবে।

সুতরাং ভোট দেয়া কিংবা না দেয়া হারাম, এ সব কথায় বা গুজবে কান না দিয়ে যোগ্য ও সৎ প্রার্থীকে ভোট দিয়ে সুন্দর সমাজ বিনির্মাণে এগিয়ে আসা ঈমানের একান্ত দাবি।